ঢাকা , শুক্রবার, ২০২৫ এপ্রিল ০৪, ২১ চৈত্র ১৪৩১
#

ক্যাম্পাস

পাঁচ কোটি টাকা আয়ের জন্য ৬০ হাজার শিক্ষার্থী ফেল!

জুলকার নাঈন
প্রকাশিত : বুধবার, ২০২১ জুলাই ২৮, ০৫:১৯ অপরাহ্ন
#

এই বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এ পরীক্ষার ফল নানা অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। উপস্থিত থাকেও পরীক্ষার্থীকে অনুপস্থিত দেখিয়ে ফেল করানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভালো পরীক্ষা দিয়েও ফল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক পরীক্ষার্থী। 

পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষার জন্য ২৯ জুলাই থেকে এ  আবেদন শুরু হচ্ছে। প্রতি কোর্সের পুনঃনিরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের গুনতে হবে ৮০০ টাকা। সে হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় হবে প্রায় ৫ কোটি টাকা। ফল পুনঃনিরীক্ষার নামে এ ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেই অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় গণহারে ফেল করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা।


অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করা চট্টগ্রাম  কলেজের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ফল পুননিরীক্ষার ফি নির্ধারণ হয়েছে ৮০০ টাকা। যেহেতু অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা কোর্সের শেষ পরীক্ষা তাই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করবেন। সে হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় হবে ৫ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের অপর এক শিক্ষার্থী ২৪ টিভি কে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে কয়েকশ কোটি টাকা জমা আছে। সেই টাকার সুদ নিয়ে গত ২০ বছর ধরে লুটপাট চলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এত টাকা দিয়ে তারা কি করবে। প্রতি কোর্সে ৮০০ টাকা করে ফল পুনঃনিরীক্ষার ফি অমানবিক। এভাবে শিক্ষার্থীদের পকেট কাটার কোন মানেই নেই। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলছেন, গত ২০ জুলাই অনার্স চতুর্থ বর্ষের রেজাল্ট প্রকাশ হয়েছে যেখানে ৭২ শতাংশ পাস আর ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। ফেল করা ৬০ হাজার ১৫৭ জনের মধ্যে ১ বিষয়ে ফেল প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী। আমাদের পরীক্ষা ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি, করোনা পরিস্থিতির কারণে ২ ভাগে পরীক্ষা নিয়ে অনার্স চতুর্থ বর্ষের রেজাল্ট পাই ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে। যেখানে করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল কলেজ বন্ধ, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ‘অটোপাস’ দেয়া হয়েছে , প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ১০০ শতাংশ পাস করাচ্ছে সেখানে আমাদের এই পরিস্থিতিতে ১ বিষয়ে ফেল দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। তাদের পরিবারের আশা আকাঙ্ক্ষা, ১ বিষয়ে ফেল করা প্রত্যেক শিক্ষার্থী ফেল করা বিষয়ে ভালো পরীক্ষা দিয়ে ও ফেল করেছে। ২০১৯ এ পরীক্ষা শুরু হলে ও করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২১ এ এসে শেষ হয়। ফলে দীর্ঘ বিরতিতে থেকে পড়াশোনা থেকে বিরত থাকায় এবং মহামারির এই বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে লড়াই করে টিকে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেক মানসিক চাপ নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছিল। ৪ বছরের কোর্স ৬ বছর সময় নেয়ায় চাকরির বয়স কমে যাচ্ছে, অনেকেই পরিবারের বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।


শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, প্রয়োজনে রেজাল্ট না দিলেও এক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের অন্তত মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ করে দেয়া হোক। সাত কলেজে এই নিয়ম থাকলে আমরা কেন বঞ্চিত হবো। এ সুযোগ না দিয়ে আমাদের কাছ থেকে অমানবিক হারে ফি নিয়ে ফল পুননিরীক্ষার আবেদন নিচ্ছে।

ঢাকা  থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া এক শিক্ষার্থী ২৪ টিভিকে জানান, অনার্স চূড়ান্ত বর্ষের ফলে তাকে ‘অর্গানাইজেশনাল বিহেভিয়ার’ বিষয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। তার কলেজে অনেক শিক্ষার্থীকে এ বিষয়ে গণহারে এফ গ্রেড দেয়া হয়েছে। খাতা দেখায় অসঙ্গতির কারণেই এমন ফল বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এখন সবাই ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন নিচ্ছে। এজন্য ফি ৮০০ টাকা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এ টাকা দিয়ে ফল পুননিরীক্ষার আবেদন করবে। আর ফেল থেকে ১ শতাংশ শিক্ষার্থীও পাস করতে পারবে না। এ পরিস্থিতিতে আমাদের পকেট থেকে কয়েককোটি টাকা নিয়ে যাবে বিশ্ববিদ্যালয়। 

অপর এক শিক্ষার্থী বলছেন, এই ৬০হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে যদি ৩০ হাজার শিক্ষার্থী চ্যালেঞ্জ করে তাহলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় হবে ২ কোটি টাকারও বেশি। অথচ রেজাল্ট পাবে হয়তো হাতেগোনা কয়েকজন। যা প্রহসন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। 

এ বিষয়ে কথা বলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমানের সঙ্গে ২৪ টিভি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। 

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

আরও খবর

Video